তিন পাগলের হলো মেলা

পুরো মাঠ জুড়ে অসংখ্য দোকান। তাতে শিকড়ের মহৌষধী থেকে শুরু করে দা-খুন্তি সব বিক্রি হচ্ছে। বুঝলাম মানুষের আগ্রহ লালনের সাধনায় নয় বরং নিজের সাংসারিক জীবন সাধনায়। অসাম্প্রদায়িক লালনের আখড়ার সামনে ধর্মব্যবসায়ীদের ভিড়ও লক্ষ্য করার মতো। ধর্মই মনে হয় এমন একটি জিনিস যা জায়গাভেদে সবক্ষেত্রেই পণ্য হিসেবে বেশ ভালো বিক্রি হয়। কিছু বিকলাঙ্গ মানুষকে দেখিয়ে টাকা তুলছে একদল আর তাদের ঘিরে দাঁড়িয়ে দেখছে অনেক মানুষ, কেউ কেউ নিজের মোবাইলের ক্যামেরাতে ছবিও তুলে নিচ্ছে! মানুষের বিকলাঙ্গতা যে দর্শনের বস্তু হতে পারে সে সম্পর্কে নতুন করে ধারণা হলো। এরকম নানা কিসিমের মানুষের ভিড়ে ক্লান্ত হতে বেশিক্ষণ লাগেনা। শেষপর্যন্ত ভিড় ঠেলে ঢুকলাম প্রধান অংশে। দেখলাম সাধক লালনের সমাধিস্থল। এরপরে ঘুরে ফিরে অনেক রাত পর্যন্ত দেখলাম বাউলদের গান। এখানে কেউ টানছে ধুম্রশলাকা, কেউ কল্কি। কেউ এখানে ভবের পাগল, কেউবা ভাবের। এক অদ্ভুত মিশ্র অনুভূতি নিয়ে ফিরে এলাম। অনুভূতির বাণিজ্যিকিকরণ আমাদের থেকে ভালো করে কেউ করতে পারে কি?

14
[প্রবেশদ্বার]



12
[সমাধিস্থল]

13
[মেলায় আগত সন্ন্যাসীরা]

রাতের বেলা লালনের আখড়া কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়াতে। ঢোকার মুখেই মানুষের প্রচন্ড ভিড়ে অবাক ! চলছে মেলা।

No comments:

Post a Comment